যুক্তরাষ্ট্রের জেন-জি প্রজন্মের রাজনৈতিক বিভাজন ভুলিয়ে দিয়েছে রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্কের মৃত্যু। ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের ওরেমে এক ক্যাম্পাস অনুষ্ঠানে দূর থেকে ছোড়া গুলিতে নিহত হন মাত্র ৩১ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। তিনি ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং কনজারভেটিভ রাজনৈতিক সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ–এর সহপ্রতিষ্ঠাতা।
ঘটনার ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রাফিক ফুটেজ তরুণদের মনে নাড়া দেয়। শুক্রবার ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
কার্কের মৃত্যুতে রক্ষণশীল তরুণেরা গভীর শোকে মুহ্যমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনে তিনি ছিলেন তাদের উপস্থিতি ছিল বেশি। তবে উদারপন্থি তরুণদের মধ্যেও শোক প্রকাশের সুর শোনা গেছে। কার্কের মৃত্যু একদিকে তরুণদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সহিংসতার হুমকি নতুন করে সামনে এনেছে।
ওয়াশিংটনের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমা বাফোর বলেন, তিনি যা-ই বিশ্বাস করুন না কেন, এভাবে কারও মারা যাওয়া উচিত নয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা তার সাংবিধানিক অধিকার।
তবে অনলাইনে সব প্রতিক্রিয়া এমন ছিল না। কারও কারও মতে, অস্ত্রাধিকারের পক্ষে অবস্থান ও নারীদের ও ট্রান্সজেন্ডারদের বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে কার্ককে নিয়ে সহানুভূতি কম ছিল। তবু বাফোরের মতো অনেকে বলেন, মতের অমিল থাকলেও হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টিম ওয়েনিঞ্জার বলেন, আজকের তরুণেরা খবর জানতে লাইভস্ট্রিম বা পডকাস্টের ওপর নির্ভর করে। কার্কের সংক্ষিপ্ত, অনানুষ্ঠানিক ভিডিও বিতর্কগুলো তাকে তরুণ অনুসারীদের কাছে বাস্তব ও ঘনিষ্ঠ করে তুলেছিল। তার জনপ্রিয় পডকাস্ট দ্য চার্লি কার্ক শো এবং টিকটকে কোটি কোটি অনুসারী ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তার হত্যার ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে কারণ প্রত্যক্ষদর্শীরা বিভিন্ন দিক থেকে তা ধারণ করে তাৎক্ষণিকভাবে পোস্ট করেছেন। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফিন লুকিতো বলেন, এটি অতীতের যেকোনও ঘটনার চেয়ে অনেক দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মরণসভা হয়েছে। ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জশ মাইকেল জানান, মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার ফ্র্যাটারনিটি হাউজে ‘প্রে ফর দ্য কার্কস’ লেখা ব্যানার টানানো হয়।
কার্কের হত্যার পর তরুণ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিরল সংহতির দেখা মিলেছে। কানেকটিকাটের তরুণ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ড ‘অগ্রহণযোগ্য’। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপাবলিকান সংগঠনের সভাপতি মানু আনপালাগান বলেছেন, আমাদের একে অপরকে আরও সম্মান করতে হবে এবং বিতর্কে শালীনতা বজায় রাখতে হবে।
রিপাবলিকান তরুণ নেতা প্যাট্রিক বারল্যান্ড মন্তব্য করেছেন, চার্লি কার্ক অনেক তরুণকে রাজনীতিতে এনেছেন। তার ওপর হামলা আসলে মুক্ত বিতর্ক ও মত প্রকাশের ওপর হামলা।
তবে হাওয়ার্ডের আরেক শিক্ষার্থী ইভান্ডার থমাস বেশি হতাশার সুরে বলেন, এ ক্ষোভ থামবে বলে আমি মনে করি না।
সূত্র: রয়টার্স