থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে একটি হাসপাতালের সামনের সড়কের বড় একটা অংশ অকস্মাৎ দেবে গেছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৩ মিনিটের দিকে ভাজিরা হাসপাতালের সামনে প্রায় ৩০ মিটার চওড়া, ৩০ মিটার লম্বা ও ৫০ মিটার গভীর ওই গর্তের সৃষ্টি হয়।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ইতোমধ্যে রাজধানীর গভর্নর চাডচার্ট সিটিপান্ট এবং তার দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন।
গভর্নর বলেন, ভাজিরা হাসপাতাল রেলওয়ে স্টেশনের ওপরে গর্তটি তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে সুড়ঙ্গ এবং স্টেশনের সংযোগস্থলে। সুড়ঙ্গে মাটি ঢুকে যাওয়ায় আশেপাশের কাঠামো ধসে পড়েছে। পানি সরবরাহের বড় একটি পাইপ ফেটে গেছে।
দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ঝুঁকি এড়াতে কর্তৃপক্ষ পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। অন্যান্য জরুরি ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সুড়ঙ্গের ফাটল বন্ধ করা, আশেপাশের ভবনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা, মাটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।
আবহাওয়ার কারণেও পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গভর্নর। তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টি হলে গর্তের মধ্যে আরও মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এলাকার মাটি এখনো সরছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় হাসপাতালটির বহির্বিভাগের পরিষেবা আপাতত স্থগিত রয়েছে এবং কাছাকাছি ভবনগুলো থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোগীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভর্তি রোগীদের পরিষেবা চালু রয়েছে। এই সময়ে বহির্বিভাগের রোগীরা ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধীন পরিচালিত অন্যান্য হাসপাতালে যেতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে, হাসপাতালের কোনও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তার স্বার্থে ভাজিরা ও সাংঘি মোড়ের মধ্যে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের বলেন, সম্পূর্ণ মেরামতকাজে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে। সন্ধ্যায় নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা করা হবে।
তথ্যসূত্র: ব্যাংকক পোস্ট