বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি দল গাজীপুরের শ্রীপুরে নেসলে বাংলাদেশের উৎপাদনকেন্দ্র পরিদর্শন করে। গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজির (আইএটি) পরিচালক অধ্যাপক মহিদুস সামাদ খানের নেতৃত্বে এ পরিদর্শনে যায় শিক্ষার্থীদের দলটি। পরিদর্শনের সময় নেসলে বাংলাদেশ টিম কয়েকটি প্রযুক্তিগত বিষয়ে আলোচনা করে, যেখানে বুয়েট স্থানীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে অবদান রাখতে পারে।
বুয়েটের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিদর্শনে বুয়েট দলের অন্য সদস্য ছিলেন অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন ভূঁইয়া, সহকারী অধ্যাপক রিফাত রহমান এবং আইএটি ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
নেসলে বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাশেদুল হাসান কায়েস আলহায়াতের নেতৃত্বে নেসলের একটি দল বুয়েটের দলটিকে স্বাগত জানায়। এই দলের সদস্যরা হলেন জ্যেষ্ঠ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ও সিকিউরিটি ব্যবস্থাপক মেজর (অব.) হাবিব হক, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ব্যবস্থাপক দীপ রাজ বৈদ্য, প্রকৌশল বিভাগের প্রধান এ এস এম শামসুজ্জামান, উৎপাদন বিভাগের প্রধান রেজাউল করিম, পুষ্টি ও পানীয় ইউনিটের ব্যবস্থাপক ও ইউনিটপ্রধান রিপন কুমার, প্রক্রিয়া প্রকৌশল ব্যবস্থাপক মো. আলী জোবায়ের প্রমুখ।
মূল কারখানা পরিদর্শনের আগমুহূর্তে নেসলে বাংলাদেশের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ধারণা দেন প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানেরা। তুলে ধরা হয়, দীর্ঘ ১৫৮ বছরে নেসলের পথচলার ইতিহাস। বর্তমানে ১৮৫টি দেশে দুই হাজারের বেশি ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করছে নেসলে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন। বুয়েট নিজেদের জ্ঞান ও স্থানীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে নেসলের কিছু প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিদুস সামাদ খান বলেন, ‘বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবে দুনিয়াজুড়েই নেসলের সুনাম অনেক ওপরে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি মানসম্মত পণ্য তৈরিতে তারা কঠোর নিয়ম মেনে চলে। তাদের এই কার্যপদ্ধতি থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আজকের পরিদর্শন থেকে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের পণ্য তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করেছে। দেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বুয়েট প্রকৌশল শিখন, গবেষণা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। যথার্থ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বুয়েট নেসলের সঙ্গে শক্তিশালী “ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়া” সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। বুয়েটের প্রকৌশলীরা কীভাবে এখানে অবদান রাখতে পারেন, সে বিষয়েও কাজ করতে আমরা আগ্রহী। আশা করি, বুয়েট ও নেসলে ভবিষ্যতে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে।’
নেসলে বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ম্যানুফ্যাকচারিং ডিরেক্টর) মো. রাশেদুল হাসান বলেন, ‘এ রকম মানুষ খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব, যাঁর নেসলের পণ্য ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নেই। আবার বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে নেসলের ব্যবসা নেই। বাংলাদেশে বসেও আমরা আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদন করছি। আমাদের কারখানার অবকাঠামো ইউরোপীয় মানের।’ তিনি আরও বলেন, নেসলে বাংলাদেশে বিশ্বমানের উৎপাদনপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বুয়েটের স্নাতকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। নেসলে বাংলাদেশ ও বুয়েটের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কাজের ব্যাপারে তিনি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।