ইংলিশ ও বিশ্ব বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউবিএ) আন্তর্জাতিক ফ্লাইওয়েট শিরোপা পুনরুদ্ধার করেন ওয়ালসালের বাংলাদেশি বংশোব্দুত হামজা উদ্দিন। তিনি তার ঐতিহাসিক জয় উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশের সিলেট শহরকে এবং তার বাবাকে।
মাত্র ২২ বছর বয়সী এই বক্সার “থ্রিলার” উদ্দিন নামে পরিচিত। শেফিল্ডের ইউটিলিটা অ্যারেনায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ পল রবার্টসকে পরাজিত করেন তিনি। রিংয়ে তার গতি, কৌশল ও শক্তির নিখুঁত প্রদর্শন দেখিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে পঞ্চম রাউন্ডের দুই মিনিট ১৭ সেকেন্ডে তিনবার মাটিতে ফেলে দেন। ফলে রেফারি বাধ্য হয়ে টেকনিক্যাল নকআউট ঘোষণা করেন।
ডাজন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এই লড়াইয়ে হামজার জয় মুহূর্তেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেয় দর্শকদের মাঝে। ওয়ালসালের এই অপরাজিত প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের বর্তমান রেকর্ড এখন ছয় জয়, যার মধ্যে তিনটি নকআউট।
ওয়ালসালে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সত্ত্বেও হামজা উদ্দিন তার সিলেটি ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত। তার পরিবারের সিলেট থেকে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে আসার গল্পই তার অনুপ্রেরণার উৎস। হামজা বলেন, তিনি শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ছয় বছর বয়সে বাবার কিকবক্সিং জীবন এবং পুরোনো প্রশিক্ষণ গ্লাভস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু হয় তার বক্সিং যাত্রা। পরিবারের গ্যারেজই ছিল তার প্রথম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে বাবা, মা ও ভাইবোনেরা তাকে নিরন্তর সহযোগিতা করেছেন। হামজা তার সব সাফল্যের কৃতিত্ব দেন বাবাকে, যিনি তাকে শিখিয়েছেন নিয়মানুবর্তিতা ও অধ্যবসায়। এই গুণই তাকে আটবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ও টিম জিবি সদস্য থেকে পেশাদার শিরোপাধারীতে পরিণত করেছে।
বিজয় অর্জনের পর হামজা উদ্দিন বলেন, “আমার আত্মবিশ্বাস সবসময়ই ছিল। আমি জানি আমি কতটা ভালো এবং কী হতে পারি। আমরা ধীরে ধীরে যত সম্ভব শিরোপা জিতব। এই জয় আমি উৎসর্গ করছি আমার বাবা, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং যারা প্রথম দিন থেকে আমাকে সমর্থন করেছেন তাদের সবাইকে।”
বক্সিং দুনিয়ায় সাহসী বার্তা ছুড়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “ব্রিটিশ ও বিশ্ব বক্সিংয়ের জন্য বার্তা একটাই—খেলার পরবর্তী সুপারস্টার এসে গেছে, আর সে হলো হামজা উদ্দিন।”
তার লক্ষ্য এখন আরও বড়—প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হিসেবে মাল্টি-ওয়েট শ্রেণিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া। দুটি বড় শিরোপা জয়ের পর সেই স্বপ্ন এখন আগের চেয়ে অনেকটাই কাছে এসে গেছে।