ব্রিটেনে তিন মাসের শিশুসন্তানের মৃত্যুর মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ২৪ বছর বয়সি নাজিল মেরথোকা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাজিলের মাদকাসক্তির সঙ্গে শিশুটি মারা যাওয়ার সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন আইনজীবীরা।
শিশু কেইলানি কালানজির হত্যার দায় থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও, মাদকাসক্তির কারণে অভিভাবকের হাতে শিশুর মৃত্যুর ঘটনার মতো ভয়াবহতা আদালতের এই রায়ে উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের ৮ জুলাই জরুরি সহায়তা হটলাইনে ফোন করে নাজিল জানান, তার সন্তান ঠিকমতো শ্বাস নিচ্ছে না। জন্মের সময় থেকেই চাইল্ড প্রোটেকশন প্ল্যানের আওতায় থাকা কেইলানিকে এরপর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা দেখেন যে শিশুটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তারা পা এবং পাঁজরের হাড় ভাঙা ছিল। ১৫ দিন পর ২৩ জুলাই শিশুটি মারা যায়।
ডিসেম্বরে এ মামলার সাজা ঘোষণা হবার কথা রয়েছে।
আইনজীবীরা বলেছেন, নাজিল মাদক গ্রহণ করতেন এবং তার সঙ্গী হার্বার্ট কালানজির সাথে আগ্রাসী সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন।
নাজিলের ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে আক্রমণাত্মক আচরণের একটি ধারা খুঁজে পেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পরে আদালত সিদ্ধান্ত দেয়, ওই ভয়াবহতার দায় একমাত্র নাজিলের ওপরই বর্তায়। তার সঙ্গী ৩৫ বছর বয়সি হার্বার্টকে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা পূর্ব লন্ডনের কমিউনিটিতে মাদকের ভয়াবহতার সর্বশেষ উদাহরণ। গুরুতর সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত পরিবারগুলোর মধ্যে সহিংসতার ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের মতো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অধ্যুষিত কমিউনিটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি পারিবারিক হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। গত দুই বছরে পূর্ব লন্ডনে বেশ কয়েকজন নারী তাদের ছেলে, স্বামী বা ভাইয়ের হাতে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বেথনাল গ্রিনে ছুরিকাঘাতে এক মায়ের মৃত্যু, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ছেলের হাতে আরেক মায়ের মৃত্যু এবং টাওয়ার হ্যামলেটসে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাইয়ের নিহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে ইউকে বাংলা প্রেসক্লাব সভাপতি রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো পরিবারে সহিংসতার জরুরি উদ্বেগকে তুলে ধরে। এতে বোঝা যায়, মাদকাসক্তি, মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সহিংসতার মতো জটিল সমস্যা মোকাবিলায় সহায়তা কতটা প্রয়োজন।