গত জুনে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি জেট দুর্ঘটনায় মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এবং যন্ত্রাংশ নির্মাণকারী হানিওয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় চার নিহত আরোহীর পরিবারের করা ওই মামলায় দুর্ঘটনার জন্য উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের অবহেলাকে দায়ী করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দায়ের করা মামলাটি যাচাই করে দেখেছেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিনিধি। অভিযোগে বলা হয়, ত্রুটিপূর্ণ ফুয়েল সুইচের কারণেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে অবগত হলেও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।
গত জুনে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১৭১ লন্ডনের উদ্দেশ্যে ভারতের আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়ন করে। তবে টেক অফের কিছুক্ষণ পরেই এটি শুন্যে বিধ্বস্ত হয়। বাহনটিতে থাকা ২৬০ জন আরোহীর সবাই মারা যান। ওই ফ্লাইটের ব্যবহৃত বাহনটি ছিল একটি বোয়িং ৭৮৭।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আকাশে ওঠার কয়েক মুহূর্ত পরই ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।ভারতের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থার (এএআইবি) প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইট ১৭১-এর ক্ষেত্রে সুইচটি রান থেকে কাট-অফ অবস্থায় চলে যায়, ফলে ইঞ্জিনের থ্রাস্ট বন্ধ হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে মার্কিন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা এফএএ দাবি করেছিল, বোয়িংয়ের বিমানে ব্যবহৃত ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ নিরাপদ।
মামলার নথিতে ২০১৮ সালে এফএএ’র একটি সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়। ফুয়েল সুইচের লকিং মেকানিজম যেন হুট করে জ্যাম হয়ে যায় বা সরে না যায়, তা নিশ্চিতে নিয়মিত যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছিল এফএএ। তবে ওই সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক হিসেবে কার্যকর করেনি তারা।
মামলায় দাবি করা হয়, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও এর যন্ত্রাংশ বাজারজাত করার সময় থেকেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি সম্পর্কে জানত বোয়িং ও হানিওয়েল।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো বিমানসংস্থাকে যথাযথ সতর্কবার্তা দেয়নি বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেনি যেন ফুয়েল সুইচ মেরামত বা পরিবর্তন করা যায়।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বোয়িং ও হানিওয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি। মামলার বিষয়ে মন্তব্য করার বদলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন ধরিয়ে দেয় বোয়িং।
ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৬ সালে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় ২২৯ যাত্রী, ১২ কেবিন ক্রু এবং মাটিতে থাকা ১৯ জন প্রাণ হারান।
তথ্যসূত্র: বিবিসি