বিকিনিতে ঝড় তুলে মিমি বললেন, অন্তরঙ্গ দৃশ্যে স্বচ্ছন্দ নন

বিকিনিতে ঝড় তুলে মিমি বললেন, অন্তরঙ্গ দৃশ্যে স্বচ্ছন্দ নন

অন্তর্জালে এখন চর্চায় মিমি চক্রবর্তী। গত বুধবার রাতে এসেছে ‘রক্তবীজ ২’ সিনেমার গান ‘চোখের নীলে’। গানটিতে বিকিনিতে দেখা গেছে অভিনেত্রীকে, যা নিয়ে চলছে আলোচনা–সমালোচনা। পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গানটি নিয়ে কথা বলেছেন মিমি।

মিমি পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে রাজি নন, চুম্বন দৃশ্যেও স্বচ্ছন্দ নন। আগে কয়েকটি সিনেমাও ছেড়েছেন এ কারণে। তবে এই গানে কেন বিকিনিতে রাজি হলেন? অভিনেত্রী বলেন, ‘দুটো তো আলাদা, আকাশ-পাতাল তফাত। একটা হলো, আমার শরীর, আমার সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয়টা হলো, আমার শরীর, আমার সিদ্ধান্ত, কারও ঘনিষ্ঠ হতে হবে এবং ক্যামেরার সামনে, যেটা দর্শক দেখবে। আমি জানি হয়তো এটা খুব বিরাট ব্যাপার না। আজ থেকে ১০ বছর আগে বিকিনি পরতে কমফোর্টেবল ছিলাম না, কিন্তু আজকে হয়েছি। আমি যেদিন ওই সব দৃশ্য করতে স্বচ্ছন্দ হব, সেদিন হয়তো করব। আমার মনে হয় না, হব। আমি অনেক ছবি ছেড়েছি এই জন্য। তবে অনুতাপ নেই। কারণ, জানি ওটা করব না।’

একই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমার পরিবারও বেশ রক্ষণশীল। থ্যাঙ্ক গড, আমার কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই, নয়তো লোকে বলত, বয়ফ্রেন্ডের জন্য এমন সিন করে না। তবে আমি এটাই। আমার মা খুব স্ট্রিক্ট। বিকিনি পরার জন্য মাকেও আমার কনভিন্স করাতে হয়েছে। তারপর বাবাকে বোঝাই যে আমার কাজ এটা। বলিউডে অনেকে পরেছে, সবাই প্রশংসা পেয়েছে। তারপর হলো।’

প্রস্তাব পাওয়ার পরেই কি বিকিনি দৃশ্য করতে রাজি হয়েছেন নাকি সময় নিয়েছেন। মিমি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘একা তো কিছু করছি না। নন্দিতাদি-শিবুদাদের (সিনেমার নির্মাতা) ওই টিমটা দরকার। ওই প্রোজেকশন দরকার। রাইট প্লেস, রাইট মোমেন্ট, ওই গানটা, ওই ডিওপি দরকার। ওই কমফোর্ট জোন না হলে করতাম না।’ একই প্রসঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘মেয়ে বিকিনি পরবে, মা রাজি হননি। মাকে বুঝিয়েছিলাম, আমার কাজের জন্য, দর্শককে নতুন কিছু দেওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। নতুন কিছু না দিতে পারলে পিছিয়ে পড়ব।’

মিমি জানান, থাইল্যান্ডের একটি সৈকতে সকাল সাড়ে নয়টায় গানটির শুটিং শুরু হয়। চলে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। গানটি শুটিংয়ের আগে প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রমের ফল এটা। ওই সময় খুব এক্সারসাইজ করিনি, কিন্তু সময় মেনে খাবার খেয়েছি। সাধারণত পাঁচ দিন ট্রেনিং করি। সেটা কমিয়ে তিন দিন করেছি। ট্রেনারের কথামতো। আট-নয় ঘণ্টা ঘুমোতাম। অনেক সময় মনে হয়েছে, ঘড়ি ধরে সব করতে আর পারছি না (হাসি)। ট্রেনারের কৃতিত্ব এটা। দুই মাস কোনো বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা করিনি। রাতে সিনেমা দেখিনি। ঠিক ১২টায় শুয়ে পড়তাম। বাইরে যেতাম না। যখন আমি যেটা করছি, সেরাটা দিতে চাই। সাফল্য-ব্যর্থতা পরের কথা।’

গানটিতে মিমির সঙ্গে দেখা গেছে আবীর চ্যাটার্জিকে। শুটিংয়ে সহযোগিতার জন্য আবীরকেও ধন্যবাদ জানান অভিনেত্রী। এবারের দুর্গাপূজায় মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এ সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়, সীমা বিশ্বাস, অঙ্কুশ হাজরা ও কৌশানী মুখার্জি।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin