বিদেশি সেবাকর্মীদের ভিসা সহায়তায় স্কটিশ সরকারের নতুন উদ্যোগ

বিদেশি সেবাকর্মীদের ভিসা সহায়তায় স্কটিশ সরকারের নতুন উদ্যোগ

স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি ঘোষণা দিয়েছেন, দেশটির সরকার বিদেশি সেবাকর্মীদের ভিসা নবায়ন ও থাকার সুযোগে সরাসরি সহায়তা করবে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশিরা কেয়ার ওয়ার্কার যুক্তরাজ্যে তাদের চাকরি ও বসবাস চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানানো হয়।

‘ওয়েস্টমিনস্টারের পক্ষপাতের খেসারত দিচ্ছে প্রবীণরা’

রোববার (১২ অক্টোবর) স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এনএসপি) বার্ষিক সম্মেলনে সুইনি বলেন, ‘ওয়েস্টমিনস্টারের অভিবাসনবিরোধী নীতির কারণে স্কটল্যান্ডের প্রবীণ নাগরিকদের যেন মূল্য দিতে না হয়।’

তিনি জানান, প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে স্কটিশ সরকার এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে, যার মাধ্যমে সেবাকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় কর্মী ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের সমালোচনা

সুইনি যুক্তরাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক অভিবাসন সীমিতকরণ নীতিকে ‘অযৌক্তিক ও ক্ষতিকর’ বলে আখ্যা দেন।

তার ভাষায়, ‘হাজারো কেয়ার ওয়ার্কার এখানে বৈধভাবে থেকে কাজ করতে পারছেন না, অথচ বৃদ্ধাশ্রমগুলো কর্মীর অভাবে হিমশিম খাচ্ছে। এ কেমন যুক্তি?’

স্বাধীনতা ইস্যুতে নতুন ডাক

সম্মেলনে তিনি আরও জানান, আসন্ন স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল আবারও স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যকে মুখ্য ইস্যু করবে। তিনি বলেন, ‘স্কটল্যান্ড স্বাধীন হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগদান করতে পারবে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে বিশাল অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।’

জনমত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বর্তমানে স্কটল্যান্ডে কর, শিক্ষা ও সামাজিক সুবিধায় যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অংশের তুলনায় তুলনামূলক ইতিবাচক অবস্থা বজায় আছে। সুইনি উল্লেখ করেন, ‘ফ্রি টিউশন, প্রেসক্রিপশনবিহীন ওষুধ, ২২ বছরের নিচে ফ্রি বাসযাত্রা—এসবই আমাদের সরকারের সাফল্য।’

তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, স্কটল্যান্ডে নতুন কোনো স্বাধীনতা গণভোট আয়োজনের অনুমতি দেবে না কেন্দ্রীয় সরকার। ২০১৪ সালের প্রথম গণভোটে ৫৫ শতাংশ ভোটার স্বাধীনতার বিপক্ষে রায় দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, সুইনির এই ঘোষণায় একদিকে মানবিক মূল্যবোধ ও প্রবাসীবান্ধব বার্তা স্পষ্ট, অন্যদিকে এটি আসন্ন নির্বাচনে এনএসপি-র স্বাধীনতা প্রচারের কৌশলকেও শক্তিশালী করবে।

স্কটল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ ভোটব্যবস্থা অনুযায়ী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হলেও, দলটি বিশ্বাস করে ৬৫ আসন জিতলে নতুন করে গণভোটের দাবিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

এমআরএম/এএসএম

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin