বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোফাখখারুল ইসলামকে মানিকগঞ্জ জেলায় একই পদে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে ডা. খুরশীদ আলমকে সিভিল সার্জন করা হয়েছে। কিন্তু গত ১৩ দিনেও নতুন সিভিল সার্জনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি মোফাখখারুল। যোগ দেননি নতুন কর্মস্থলেও। এতে এক জেলায় বর্তমানে দুজন সিভিল সার্জন অবস্থান করায় চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অস্বস্তিতে পড়েছেন। যার প্রভাব পড়ছে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার ওপর। স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও জানা গেছে।
বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ) সহকারী সচিব এম. কে হাসান জাহিদ স্বাক্ষরিত গত ১৪ সেপ্টেম্বরের এক প্রজ্ঞাপনে বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোফাখখারুল ইসলামকে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে বদলি করা হয়। একইসঙ্গে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশীদ আলমকে বগুড়ার সিভিল সার্জন হিসেবে বদলি করা হয়। দুজনকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বদলিকৃত জেলায় যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি (স্ট্যান্ড রিলিজ) পাবেন মর্মে উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।
বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বগুড়ায় বদলিকৃত ডা. খুরশীদ আলম গত ১৭ সেপ্টেম্বর বগুড়া কার্যালয়ে যোগদান করতে এলে ডা. একেএম মোফাখখারুল ইসলামকে পাননি। এ সময় কয়েকজন চিকিৎসক নেতা তাকে যোগদানে বাধা দেন। বাধ্য হয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে যোগদান করেন। এরপর ডা. খুরশীদ আলম বগুড়া কার্যালয়ে কাজে যোগদান করেন। কিন্তু গত ১৩ দিনেও তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি মোফাখখারুল ইসলাম। কারণ তিনি অফিসে আসেন না। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। আগামী মাসে টাইফয়েডের টিকাদান কর্মসূচি নিয়েও তারা চিন্তিত। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। সরকারি নথিপত্রে নতুন সিভিল সার্জনের নাম থাকলেও এখনও পুরোনো কর্মকর্তার নামেই চলছে বিভিন্ন দাফতরিক কার্যক্রম। এতে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেমন বিভ্রান্ত হচ্ছেন, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে জেলা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাজ্জাদ উল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নতুন সিভিল সার্জন নিয়ম মেনে রাজশাহী স্বাস্থ্য বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে যোগদান করেছেন। তবে অফিসিয়ালি যোগদান হয়নি। আগের সিভিল সার্জন দায়িত্ব হস্তান্তর না করলেও বর্তমানে কাজে কোনও সমস্যা হচ্ছে না তার। ১২ অক্টোবর টাইফয়েডের টিকাদান কর্মসূচি থাকলেও প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই নতুন সিভিল সার্জনকে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন বিদায়ী সিভিল সার্জন।’
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চিকিৎসক, দুজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কয়েকজন নেতার দাপটে বিদায়ী সিভিল সার্জন গত ১৩ দিনেও মানিকগঞ্জে যোগদান করেননি। তিনি বগুড়ায় থাকতে চান।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বগুড়া থেকে বদলিকৃত সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোফাখখারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাত্র ছয় মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। তাই এই জেলায় আরও কয়েক মাস থাকতে চাই। বিষয়টি নিয়ে বিএমএ’র কয়েকজন নেতা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে চেষ্টা করছেন; যাতে এখানে থাকতে পারি। তারা ব্যর্থ হলে মানিকগঞ্জে যোগ দেবো। তবে নতুন সিভিল সার্জন আনঅফিসিয়ালি বগুড়ায় যোগদান করেছেন; আমি অফিসে যাচ্ছি না। ফলে তার কাজে কোনও সমস্যা হচ্ছে না।’
বগুড়ার নতুন সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ১৬ সেপ্টেম্বর মানিকগঞ্জ থেকে রিলিজ নিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর বগুড়ায় যোগদান করতে আসি। আর্টিকেল ৪৭ অনুসারে পূর্ববর্তী কর্মকর্তা আমাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও দেননি। উল্টো কয়েকজন চিকিৎসক আমাকে যোগদানে বাধা দেন। ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যোগদান না করলে স্ট্যান্ড রিলিজ দেওয়া হবে, তাই বাধ্য হয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে যোগদান করেছি। বর্তমানে বগুড়ায় অফিস করছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে আগের সিভিল সার্জন স্ট্যান্ড রিলিজ হয়ে গেছেন।’