কালকি কোয়েচলিন যেন নিজের প্রতি সত্য থাকার শিল্পটিকেই উদযাপন করেন। অভিনেত্রী-লেখক হিসেবে তিনি কখনোই নিজেকে প্রচলিত প্রত্যাশার ছকে বাঁধতে দেননি। তার পছন্দ, তার পথ—সবই সাহসী, মৌলিক এবং নিখাদ আত্মগত সত্যে ভরা।
তার কাছে ফ্যাশন মানে পরিচয়ের ভাষা—ব্যক্তিত্ব, বিশ্বাস এবং উদ্দেশ্যের বহিঃপ্রকাশ। পোশাক তার কাছে সবসময়ই ব্যক্তিগত এক অভিব্যক্তি। বলা যায়—কালকি সবসময়ই নিজের মতো করে পোশাক পরেন। ‘আমি এখন ক্রমশ সরলতার দিকে ঝুঁকছি। মিনিমালিজমই আমাকে টানে’, বলেন তিনি।
তবু সরলতায় বিশ্বাসী হলেও মাঝে মাঝে নিজস্ব স্বস্তির সীমানার বাইরে বেরিয়ে নতুন কিছু চেষ্টা করতে গিয়ে অবাক হন তিনি নিজেও। ‘শুটিংয়ের সময় আমি এক দারুণ হলুদ শাড়ি পরেছিলাম। প্রথমে মনে হচ্ছিল আমি হয়তো তা ক্যারি করতে পারব না, কিন্তু পরে পরার পর দেখলাম—অসাধারণ লাগছে। কখনও কখনও শুধু চেষ্টা করলেই হয়। ফ্যাশন আমার কাছে ঠিক এমনই—নতুন আবিষ্কারের জন্য নিজেকে উন্মুক্ত রাখা।’ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6921a346e4837" ) ); ফরাসি বাবা-মায়ের ঘরে ভারতের পুদুচেরিতে জন্ম নেওয়া কালকি জানান, সেই পরীক্ষামূলক শৈশবই তাকে গড়ে দিয়েছে। ‘আমি তো জন্ম থেকেই একটি এক্সপেরিমেন্ট’, হেসে বলেন তিনি। ‘আমার বাবা-মা ’৭০-এর দশকে অরোভিলে চলে আসেন—যা ছিল একটি পরীক্ষামূলক কমিউনিটি। আমি তিন ভাষায় কথা বলতে শিখেছি, বিশ্বের নানা খাবার খেয়েছি, যাযাবরের মতো বড় হয়েছি। এ সমস্ত অভিজ্ঞতাই আমাকে অনুসন্ধানী করেছে—অনুকূল, কৌতূহলী এবং পরিবর্তনের প্রতি।’
তার অভিনয় ক্যারিয়ারেও এই মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যায়। ‘দেব.ডি’ (২০০৯)-এ সাহসী যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিষেক হোক বা ‘মার্গারিটা উইথ আ স্ট্র’ (২০১৪)-তে আবেগী, কোমল চরিত্র কিংবা ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ (২০১১)-র হাস্যরসাত্মক চরিত্র—কালকি কখনোই এক ঘরানায় নিজেকে আটকে রাখেননি। ‘থিয়েটার আমাকে শিখিয়েছে পৃথিবীকে দেখার অন্য দৃষ্টিভঙ্গি’, বলেন তিনি। ‘এটা আমাকে শিল্পী হিসেবে মাটিতে পা রাখা শিখিয়েছে। থিয়েটার শরীর, কণ্ঠ, প্রবৃত্তি—সবকিছুকে কাজে লাগাতে শেখায়। এখানে লুকোবার সুযোগ নেই। তাই নিজেকে কোনও ঘরে বন্দি করতে আমি কখনোই চাইনি।’ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6921a346e486d" ) ); মাতৃত্ব আর ক্যারিয়ারের সমন্বয় করাও সহজ ছিল না, তবু কালকি লড়াই করে নিজের তাল খুঁজে নিয়েছেন। ‘শুরুর দিকে কাজের সময় দিতে পারতাম না। এখন একটু ব্যালান্স এসেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় মেয়ের থেকে দূরে থাকা এখনও কঠিন। ভ্রমণে গেলে খুব মিস করি। তবে প্রতিটি পর্বেরই আলাদা ছন্দ আছে’, বলেন ৪১ বছর বয়সী অভিনেত্রী। ‘মা হওয়া এক দারুণ যাত্রা—পূর্ণ সময়ের ওয়ার্কআউটের মতো। শরীর বদলে যায়, জীবন বদলে যায়, সবকিছু ধীর হয়ে আসে। সময়ের সঙ্গে তা সহজ হয়। আমার মেয়ে সাফো এখন পাঁচ বছরের, আর আমরা একসাথে ভীষণ মজা করি।’
অনেকদিন ধরে গোয়ায় বসবাস করছেন কালকি। মুম্বাইয়ের ব্যস্ততার বদলে বেছে নিয়েছেন মুক্ত, বোহেমিয়ান জীবন। তবে ফরাসি শেকড়ও তিনি হারিয়ে ফেলেননি। ‘আমার মেয়ে ফরাসি এবং হিন্দি—দুই ভাষাই পারে। ফ্রান্সে আমার তেমন ঘরবাড়ি নেই, কিন্তু স্বাদটা আছে। বাড়িতে ভালো ওয়াইন আর ভালো চিজ সবসময় থাকে’, হাসতে হাসতে বলেন তিনি। ‘আমরা প্রচুর ফরাসি গানও শুনি। আমার মায়ের কারণে এডিথ পিয়াফ ও জ্যাঁক ব্রেলের গান খুব পরিচিত।’ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6921a346e488f" ) ); গোয়ার শান্তির মাঝেও কালকির ভেতরের চ্যালেঞ্জ-অন্বেষী সত্তা সক্রিয়ই রয়েছে। ‘আমি খুবই চাই কোনও মার্শাল-আর্ট-ভিত্তিক অ্যাকশন ফিল্ম করতে। চ্যালেঞ্জিং কিছু করতে আমার ভালো লাগে। কোনও ঐতিহাসিক চরিত্রেও অভিনয় করতে চাই। আর অবশ্যই ভালো কোনও রোমান্টিক কমেডি—তা তো সবসময়ই স্বাগত’, আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললেন কালকি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস