পিআর পদ্ধতিতে (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) আগামী জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীতে গণমিছিল করেছে জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামী দল। গণমিছিলে নেতারা বলেন, ‘পিআর নিয়ে জনগণকে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। অথচ দেশের অধিকাংশ মানুষ পিআরের পক্ষে। আর জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে টালবাহানাও জনগণ মেনে নেবে না।’ তারা ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের শরিকদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে গণমিছিল করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তার আগে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আগামী ১৫ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগে পিআর পদ্ধতি নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আগামী নির্বাচন জুলাই সনদের ভিত্তিতেই হতে হবে। এটি বাস্তবায়নে গণভোট দিতে হবে। সেখানে পিআরের বিষয়টিও থাকবে। জাতির মতামত না নিয়ে পিআরকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।’
তাদের মিছিলটি কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
একই দাবিতে বিকাল সাড়ে ৪টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে গণমিছিল বের করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে মিছিলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম ও মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
জুমার পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেই আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যারা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করবে, তারাই বাহাত্তরের বাকশালী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হবে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি আগামীর বাংলাদেশ বাঁচা-মরার এবং শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রশ্ন। এখন এ গণদাবি বাস্তবায়ন না করতে পারায় সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত।’
মামুনুল হক দাবি আদায়ে আগামী ১২ অক্টোবর সারা দেশের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনীর সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশিদ সিদ্দিকী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আমীনের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী, মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ হাদী, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রাজি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ এবং বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
একই দাবিতে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে গণমিছির বের করে খেলাফত মজলিস। এতে নেতৃত্ব দেন নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী ও মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।